বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সরকারি খাল, খাস জমি ও মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষ ও সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা, মারামারি, ভাঙচুর ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাল ও খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হচ্ছেন। কারও হাত-পা ভেঙে যাচ্ছে, কেউ মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিরীহ সাধারণ মানুষও এসব সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের বেশিরভাগই নিম্নআয়ের মানুষ। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে। হাসপাতালে আহতদের স্বজনদের বারান্দা ও করিডোরে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে, যা মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দখল ও সহিংসতার পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মামলা করতে গেলে উল্টো হুমকি-ধমকি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই আইনি সহায়তা নিতে পারছেন না।
স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকটি ঘটনায় মামলা নিলেও দখল ও সংঘর্ষ বন্ধে কার্যকর দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান না থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে খাল ও খাস জমি দখলমুক্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান বা কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সচেতন মহল বলছে, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও জোরালো হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
রামপালে খাল, খাস জমি ও ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চলমান এই সহিংসতা এখন জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত, কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com