চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় এসে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সাধারণ মানুষই এখন দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। শয্যা সংকট, বিকল যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি নিজেই ‘রোগাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শয্যা সংকট এতটাই চরম যে, ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে অনেক রোগী মেঝে বা নোংরা করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
হাসপাতালের ভেতরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডের পাখা ও লাইট বিকল। প্রচণ্ড গরমে রোগীরা অসহনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। কোনো জেনারেটর সুবিধা না থাকায় জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসকরা মোবাইলের আলোতে কাজ করছেন।
এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল। প্যাথলজি সুবিধা না থাকায় রোগীদের প্রতিটি পরীক্ষা করতে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, যা চিকিৎসার খরচ কয়েকগুণ বাড়াচ্ছে।
গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় স্থানান্তরে প্রধান বাধা অ্যাম্বুলেন্স সংকট। হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুইটি অকেজো। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সামান্য জটিলতা দেখা দিলে রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা সার্বিক অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার বলেন, "সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং সমাধানের জন্য নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।"
ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, "দ্রুতই হাসপাতালের এই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে শুধু আশ্বাস নয়, বাকেরগঞ্জবাসীর এখন দাবি বাস্তব ও টেকসই সমাধান। পাঁচ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে উদাসীনতা কবে শেষ হবে—এ প্রশ্নই এখন সর্বত্র।