বর্ষা মৌসুম শুরু হতে এখনো বাকি থাকলেও কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। চৈত্র মাসের শুষ্ক মৌসুমেই নদীর অকাল তাণ্ডবে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরশৌলমারী ইউনিয়নের সুখের বাতি, ঘুঘুমারী, খেয়ারচর ও চরখেদাইমারী এলাকায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ, কোদালকাটি ও নয়ারচর এলাকাতেও নদীভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। সাহেবের আলগা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে ঘুঘুমারী থেকে সুখের বাতি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে সুখের বাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিস্তীর্ণ আবাদি জমি।
নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম বলেন, “নদীর পাশে থাকি, যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বাড়িটা ভেঙে গেলে সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব?” একইভাবে ৬০ বছর বয়সী রহিম উদ্দিন জানান, জীবনে চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙন তীব্র হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় নদীর তীর দুর্বল হয়ে ধসে পড়ছে। তারা দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে আশ্বাস দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। ফলে নদীপাড়ের মানুষ দিন দিন দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ না করলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং বহু গ্রাম মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।