কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ, উর্বর মাটি এবং কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শে এ দুই ইউনিয়ন এখন শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
রামু উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছে কৃষি উৎপাদনে। এই দুই ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত বাকখালী নদীর দুই তীরজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে অসংখ্য চরাঞ্চল—ফকিন্নি চর, ফাক্রিকাটা চর, তিতারপাড়া চর, কচ্ছপিয়ার চর ও সিকদারপাড়া চর। বর্ষা মৌসুমে এসব চরে পলিমাটি জমে জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর হয়ে ওঠে, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
এসব চরাঞ্চলে বর্তমানে মরিচ, শসা, করলা, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। ফলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের কৃষক আইয়ুব জানান, তিনি তামাক চাষ ছেড়ে মরিচ চাষে মনোযোগ দিয়ে আগের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি লাভ করছেন। তার ৮০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আর বিক্রি করে আয় করেছেন প্রায় ৫ লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের সময়োপযোগী পরামর্শ—বিশেষ করে বপন পদ্ধতি, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা—তাদের সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
একই এলাকার কৃষক আমান উল্লাহ, মির আহমেদ, ছৈয়দ আলম, মোস্তাক আহমেদ ও হামিদ হোসাইন বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের নিয়মিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তারা আরও বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।
স্থানীয়দের মতে, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কৃষির আওতায় আনা গেলে রামু উপজেলা শুধু নিজস্ব চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ফসল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কৃষি বিভাগের উদ্যোগ, কৃষকদের পরিশ্রম এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের সমন্বয়ে কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়ন সত্যিকার অর্থেই রামুর শস্যভান্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com