চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে শুরু থেকেই নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত বালু ও ভাঙা পুরোনো ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও টেকসই হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারী পশুহাট সংলগ্ন এলাকায় একটি ইয়ার্ডে পুরোনো কালভার্টের ভাঙা ইট, খোয়া ও মাটি মিশ্রিত বালু একসঙ্গে মজুত অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব উপকরণ মিশ্রিত করেই সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উথলী বিজিবি ক্যাম্পের সামনে সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে, এজিং দেওয়ার পর কার্পেটিং নিচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি পিচের পরিবর্তে অতিরিক্ত মবিল ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা সড়কের মানের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক বিভাগ তদন্তের আশ্বাস দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আলামিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকৌশলী ও সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতেই কাজ চলছে এবং কোনো অনিয়ম নেই। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, কিছু উপকরণ দেখতে মাটির মতো মনে হলেও তা বালু এবং পরীক্ষিত। তবে খোয়ার মধ্যে কিছু পুরোনো ইট থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে, যা তদন্তের দাবি রাখে।
সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কাজের মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com