কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকিনীর-পাঠ বাজারে দীর্ঘ প্রায় চার দশকের একটি অলিখিত প্রথা ভেঙে গরু জবাইয়ের ঘটনায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরবর্তীতে দুই সম্প্রদায়ের সমঝোতায় আগের নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিন্দু অধ্যুষিত এ বাজারে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ ছিল। বাজারের মাঝখানে একটি কালী মন্দির থাকায় মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ প্রথা চালু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা বজায় ছিল।
সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজারে একটি গরু জবাই করা হলে পূর্বের এই প্রথার ব্যত্যয় ঘটে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ এপ্রিল স্থানীয় দুই সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থানায় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগের মতোই বাজারে গরু জবাই করা হবে না এবং পূর্বের ঐতিহ্য বজায় রাখা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো বড় ধরনের বিরোধ হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও সবাই সম্প্রীতি বজায় রাখতে আগ্রহী।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানান, পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এ বাজারে গরু জবাই করা হয় না এবং আশপাশের বাজার থেকে মাংস সংগ্রহে কোনো সমস্যা হয় না।
মন্দির কমিটির সদস্য কাঞ্চন কুমার বর্মন বলেন, মন্দিরের অবস্থানের কারণে গরু জবাই না করার অনুরোধ দীর্ঘদিন ধরে সবাই মেনে এসেছে।
অন্যদিকে, গরু জবাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আজিজুল হক বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চাহিদাও বেড়েছে, তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখা সবার দায়িত্ব এবং এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, বাজার কর্তৃপক্ষ নিজেরাই সম্প্রীতি রক্ষায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com