নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মোবাইলফোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আল আমিন মণ্ডল (২২) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বড়পই হাজীর মোড় এলাকায়। আহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা গ্রহণ বা দৃশ্যমান কোনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।
আহতের বাবা মামুনুর রশীদ চারজনকে অভিযুক্ত করে মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—আব্দুর রশীদ, আজাহার আলী, শহিদুল ইসলাম ও নয়ন হোসেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা এখনও এলাকায় ঘোরাফেরা করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করতে হুমকি দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল আমিন তার ব্যবহৃত একটি মোবাইলফোন ৩ হাজার ৮০০ টাকায় আব্দুর রশীদের কাছে বিক্রি করেন। পরে ফোনটি ফেরত দিয়ে টাকা দাবি করলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে আল আমিন বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির নিকটস্থ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে মারধরের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে পুলিশের বিলম্বিত পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com