প্রথম পর্ব | বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে ওঠা চুল বাছাই কেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিদিন প্রায় ৬ ঘণ্টা কাজ করেও শ্রমিকরা পাচ্ছেন মাত্র ৬০ টাকা মজুরি। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু শ্রম শোষণ নয়—বরং আধুনিক দাসত্বের এক নির্মম উদাহরণ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে গোপনে ও প্রকাশ্যে পরিচালিত এসব চুল বাছাই কেন্দ্রে অধিকাংশ শ্রমিকই নারী। অস্বাস্থ্যকর, ঘিঞ্জি ও অপর্যাপ্ত আলো-বাতাসের পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কর্মস্থলে নেই কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সুবিধাও অনুপস্থিত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এত দীর্ঘ সময় কাজের বিনিময়ে শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৬০ টাকা, যা বর্তমান বাজার বাস্তবতায় চরম অমানবিক। বিষয়টি দেশের প্রচলিত শ্রমনীতি ও মানবাধিকারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা কি এই কেন্দ্রগুলোর বাস্তব চিত্র সম্পর্কে অবগত নন, নাকি জেনেও নীরব রয়েছেন?
বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মান্দার এসব চুল বাছাই কেন্দ্রে তার কোনো প্রতিফলন নেই। নেই কোনো শ্রম পরিদর্শন, নেই নিয়মিত তদারকি কিংবা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী এই শ্রমকে পুঁজি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। অথচ যাদের শ্রমে এই অর্থনীতির চাকা ঘুরছে, সেই শ্রমিকদের ভাগ্যে জুটছে সামান্য পারিশ্রমিক।
এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—
শ্রমিকের ঘামে তৈরি সম্পদের ন্যায্য অংশ কেন শ্রমিক পাবে না?
সচেতন নাগরিক ও শ্রম অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে এসব কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তদন্ত, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
(চলবে—দ্বিতীয় পর্বে থাকছে: কারা পরিচালনা করছে এই কেন্দ্রগুলো, কারা পাচ্ছে লাভ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগের অনুসন্ধান)
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com