
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিবগুড়ার ধুনট উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের বিশ্বহরিগাছা গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে অপূর্ব (২০) দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের ওই স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাওয়া–আসার পথে উত্ত্যক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করলে অপূর্ব তাকে অপহরণের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে পরিবার সতর্ক করলেও অপূর্বের আচরণ বন্ধ হয়নি।
গত ১ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে বিশ্বহরিগাছা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা অপূর্ব ও তার সহযোগীরা স্কুলছাত্রীর পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক তাকে একটি অজ্ঞাত সিএনজিতে তুলে উদগাড়ী বিলের নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপূর্ব তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরে স্থানীয় এক যুবক অচেতন অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে খবর দেন। প্রথমে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পরদিন অপূর্বের পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যরা ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং সমঝোতার প্রস্তাব দেন। এমনকি ২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে অপূর্বের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক বিয়ে পড়ানো হয়। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই দিন পর ৪ ডিসেম্বর অপূর্ব মেয়েটিকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ধুনট থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজ আলম বলেন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com