যশোরে শ্যালিকা ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত ডা. রাফসান জানির দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় ১০ সাংবাদিককে আসামি করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)। সংগঠনটি মামলাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আরজেএফ’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের সংবাদ প্রকাশিত হলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা একটি পুরনো কৌশল। তিনি ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় সারাদেশে কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডা. রাফসান জানি যশোর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ৩৮৯/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার বিবরণে বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কথিত হুমকির ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া মামলায় উল্লেখিত অর্থের পরিমাণ নিয়েও ভিন্নতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলায় আরও দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের প্ররোচনায় শ্যালিকা মামলা করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী নারী এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোনো অডিও, ভিডিও বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মামলায় যেসব সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com