ঝিনাইদহের পোস্ট অফিস মোড়ে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রংমিস্ত্রি তোয়েব আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সমাজ ও কর্মব্যবস্থার এক চরম অবহেলা আর রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। মহারাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর প্রাইমারি স্কুলের পাশের এই সাধারণ শ্রমজীবী মানুষটির অকাল মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের দায়িত্বশীলতার অভাবের এক করুণ প্রতিফলন।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সমাজের যে নেতিবাচক চিত্রটি সবচেয়ে প্রকট হয়েছে, তা হলো শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা। শহরের ব্যস্ততম এলাকায় কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা কিংবা সেফটি গিয়ারের অনুপস্থিতি আমাদের উন্নয়ন সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিক। একজন রংমিস্ত্রি যখন বৈদ্যুতিক লাইনের এত নিকটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, তখন সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকা বড় ধরনের গাফিলতির পরিচয় দেয়। আমাদের চারপাশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেই উন্নয়নের পেছনে থাকা কারিগরদের জীবনের মূল্য যেন এখানে সস্তা হয়ে পড়েছে।
এছাড়া এই দুর্ঘটনা আমাদের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতাকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। জনবহুল স্থানে খোলা বৈদ্যুতিক তার বা বিপজ্জনক পয়েন্টগুলো কেন আগে থেকে নিরাপদ করা হয়নি, সেই প্রশ্নটি আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একজন দরিদ্র শ্রমিকের মৃত্যুর পর কেবল তদন্তের কথা বলা হলেও, সেই পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, তার দায়ভার নিতে সমাজ বা প্রতিষ্ঠান প্রায়ই অনীহা দেখায়। তোয়েব আলীর এই করুণ পরিণতি সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা যে, জীবনের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে চলা এই ব্যবস্থাটি কতটা ভঙ্গুর এবং সাধারণ মানুষের জন্য কতটা অনিরাপদ।