এলপিজি গ্যাসের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাসের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৩৪১ টাকা। পরে তা এক দফায় বেড়ে দাঁড়ায় ১,৭২৮ টাকা এবং সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল থেকে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৯৪০ টাকা। ফলে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে একটি সিলিন্ডারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৫৯৯ টাকা গুনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া, বিমা খরচ ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বৃদ্ধিও এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তবে নির্ধারিত দামের চেয়েও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকি দুর্বল হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি বেড়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা হওয়ায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পেলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তারা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়ায় রান্নার খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ চাপ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, শুল্ক ছাড় বা ভর্তুকি বিবেচনা এবং ব্যবসায়ীদের অতি-মুনাফা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com