বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ‘জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন (এমআর) ২০২৬’-এর উদ্বোধন ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষায় এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসী।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তিনি গুজব ও অপপ্রচার রোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত পাল, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন, রামপাল প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মো. শাহাজালাল গাজী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খৈয়াম আহমেদসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় জানানো হয়, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রামপালের ১০টি ইউনিয়নে তিন সপ্তাহব্যাপী (১১ কর্মদিবস) এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১৪ হাজার ৪১৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, শিশুমৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তবে টিকা নিয়ে গুজব, দুর্গম এলাকায় সেবা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতা এবং জনসচেতনতার ঘাটতি কর্মসূচি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব।
সর্বশেষে, এই কর্মসূচিকে সফল করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com