নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে একটি সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতবাড়িয়া-প্রসাদপুর খেয়াঘাট সড়কের শয়তানের মোড় থেকে শুটকির মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় কুষ্টিয়ার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই সাবঠিকাদার মিলন হোসেন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজে বালুর পরিবর্তে বিলের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিম্নমানের ভাঙা ইট, চিমনির খোয়া এবং পুরোনো রাস্তা থেকে তুলে আনা পাথর-বিটুমিনযুক্ত খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দ্রুতই রাস্তার স্থায়িত্ব নষ্ট করতে পারে।
এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা ঠিকাদারকে সতর্ক করেছি। কিন্তু তিনি কোনো কথা শোনেননি। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করলে রাস্তা টেকসই হবে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মিলন হোসেন বলেন, ‘নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। সামান্য কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। যদি কোনো উপকরণে সমস্যা থাকে, তা সরিয়ে নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।