কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে নৌ পুলিশের একটি টহল দল। এতে নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চরভবানিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত শাহিনুর হককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। এ সময় নিয়মিত টহলে থাকা নৌ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ছিল। গোলাগুলিতে তাদের কয়েকজন আহত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রাজশাহী রেঞ্জ নৌ পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত কাজ চলছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com