
প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার পেছনে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকেও দায়ী করছে এডিবি। বিশেষ করে:
• মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের অস্থিরতা আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
• কঠোর নীতিমালা: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
তবে কিছুটা আশার বাণীও শুনিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।
দেশের ব্যাংক খাতের রুগ্ন দশা নিয়ে প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি, মূলধন ঘাটতি এবং সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত দক্ষ হতে পারছে না। এর ফলে:
• ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
• আর্থিক বৈষম্য বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এই সংকট নিরসনে এডিবি বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি প্রদান করেছে। এই অর্থ মূলত ব্যাংক তদারকি শক্তিশালী করা, তারল্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসারে ব্যয় হবে।
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের সংস্কারে ২০২৫ সালে মোট ৫২১ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এডিবি। এর একটি বড় অংশ আসবে সরাসরি ঋণ ও অনুদান হিসেবে, আর বাকিটা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হবে।
এডিবির সতর্কতা: প্রবৃদ্ধি বাড়লেই উন্নয়ন সার্থক হয় না। যদি এই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরে সমানভাবে না পৌঁছায়, তবে আয়বৈষম্য আরও প্রকট হতে পারে। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া অপরিহার্য।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এডিবির এই পর্যবেক্ষণ সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সময়োচিত সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনীতির এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com