ডিজিটাল হয়রানি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ঠেকাতে নতুন সাইবার আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তাঘাট, পার্ক কিংবা রেস্টুরেন্টে সাধারণ মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে অনেকেই ট্রল ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত আইনের আলোচনায় জানা যায়, ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্তকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। এজন্য আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ নিশ্চিতের পাশাপাশি কার্যকর আইন প্রয়োগই পারে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তুলতে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com