মাসুদ রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার:
মনিরামপুরের নেহালপুর ইউনিয়নে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হওয়া ৬৫ বছরের মজিদ দফাদারের লাশ আড়াই মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। রোববার সকালে আদালতের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার ভূমি) মাসুদুর রহমানের উপস্থিতিতে মনিরামপুর থানা পুলিশ লাশ উত্তোলন কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
নিহত মজিদ দফাদার এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর স্থানীয়রা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন দেখতে পান। অভিযোগ ওঠে, তার পুত্র ও নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহরাব দফাদারের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি প্রাণ হারান। এই ঘটনায় নিহতের জামাই সাত্তার মোল্যা মনোহরপুর ইউনিয়নের খাকুন্দি গ্রাম থেকে বাদী হয়ে ২৯ অক্টোবর থানায় ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা নং-সিআর ১১২৪/২৫ অনুযায়ী জুডিশিয়াল আদালতের নির্দেশে মনিরামপুর থানায় ০৪ নভেম্বর মামলা রেকর্ড করা হয়। থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত সোহরাব দফাদারকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে ০৩ ডিসেম্বর যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসানের স্বাক্ষরিত আদেশে, মৃত মজিদ দফাদারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য ফৌজদারী কার্যবিধি ১৭৬ (২) ধারায় লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই রেজাউল হক ও এএসআই শাহাজাহান বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। লাশ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আড়াই মাস পরও নিহতের পুত্রের বিরুদ্ধে পিতাকে হত্যার অভিযোগে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন চলছে। ঘটনার সত্যতা ও হত্যার মূল কারণ উদঘাটন করতে পুলিশ ও প্রশাসন ময়নাতদন্তসহ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com