বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি উপজেলার রনসেন এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শেখ জানান, তিনি নিজস্ব জমি থেকে বালু উত্তোলন করে অন্য একটি জমি ভরাটের কাজ করছিলেন। এ সময় এশিয়ান টেলিভিশনের উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সুজন মজুমদার তার কাছে এসে প্রশাসনের জরিমানার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২০ দিনের জন্য বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী মেহেদী হাসান এবং আঞ্চলিক দৈনিক ‘লোকসমাজ’-এর প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী সবুর রানা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
হুমকি ও ব্যবহৃত ড্রেজার হারানোর আশঙ্কায় তিনি এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাননি বলেও জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয় না। কেউ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে দ্রুত জানাতে অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌস বলেন, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সুজন মজুমদার দাবি করেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং অভিযোগকারীকে চেনেন না।
এদিকে রামপাল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. শাহাজালাল গাজী জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক পরিচয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনকে হয়রানির অভিযোগে তাদের প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com