গণমাধ্যম যে সমাজের দর্পণ ও রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ—তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলায়। ‘দৈনিক অভয়নগর’ পত্রিকায় জ্বালানি সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সচল হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন, ফিরেছে জনজীবনের স্বস্তি।
গত ২৭ এপ্রিল “রৌমারীতে জ্বালানি হাহাকার: বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এর আগে টানা ১৪ দিন ধরে রৌমারীর একমাত্র ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন এবং রাজিবপুরের একটি মিনি পাম্পে তেল সংকট দেখা দেয়। ফলে মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহন অচল হয়ে পড়ে, বিপাকে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তদারকিতে ফুয়েল কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে দ্রুত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুধবার সকাল থেকে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে যানবাহন চলাচল আবার সচল হয়।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরে আসে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর হয়েছে। একই সঙ্গে সেচ মৌসুমে জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি সংবাদ কীভাবে দ্রুত সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই ঘটনা। তবে দীর্ঘ ১৪ দিনের এই সংকট নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে—কেন একটি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হলো।
স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য প্রয়োজন কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জ্বালানি সরবরাহ কেবল একটি সেবা নয়, এটি পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এখন রৌমারী ও রাজিবপুরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে তেল প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com