গ্রীষ্মকাল মানেই তরমুজের মৌসুম। শীতকালে বপন করা এই ফল গ্রীষ্মে পেকে ওঠে এবং প্রচণ্ড গরমে মানুষের ক্লান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলতি মৌসুমে তরমুজের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে জনপ্রিয় এই রসাল ফল।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা শরীরকে সতেজ রাখে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। বিশেষ করে গরমের সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে যে পানি ও খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়, তরমুজ তা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তরমুজের উপকারিতার মধ্যে রয়েছে—
নিয়মিত তরমুজ খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, শরীর ঠান্ডা রাখে এবং ঘুম ভালো হতে সহায়তা করে। ওজন নিয়ন্ত্রণেও তরমুজ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু ভেষজ ব্যবহারেও তরমুজের গুরুত্ব রয়েছে। যেমন, পাকা তরমুজের রস শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। তরমুজের বীজ শুকিয়ে গুঁড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে প্রস্রাবজনিত সমস্যায় উপকার পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে প্রায় ৯৭ শতাংশ পানি থাকে। এছাড়া এতে সামান্য প্রোটিন, শর্করা, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন ভিটামিন রয়েছে। এর খাদ্যশক্তি প্রায় ১৬ কিলোক্যালরি, যা শরীরের জন্য হালকা ও উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গ্রীষ্মের তীব্র গরমে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে তরমুজ একটি সহজলভ্য ও উপকারী ফল। তাই মৌসুমে নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com