সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ধান কর্তনের অগ্রগতি নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রকাশিত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, কাগজে-কলমে অগ্রগতি বেশি দেখানো হলেও বাস্তবে সেই চিত্র ভিন্ন।
উপজেলা কৃষি অফিসের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, বরাম হাওরে ৬৪ শতাংশ, চাপতি হাওরে ৫৮ শতাংশ, উদগল হাওরে ৫৩ শতাংশ এবং কালিয়াগুটা হাওরে ৪০ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য হাওরেও ৫০ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব তথ্যের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, যেখানে হারভেস্টার বা শ্রমিক কাজ করছে, সেখানে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কৃষক এখনও তাদের জমির এক-তৃতীয়াংশও কাটতে পারেননি।
কৃষকদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার বৃহত্তম কালিয়াগুটা হাওরে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে। অন্যান্য হাওরগুলোতেও গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে, আবহাওয়া ও পরিবহন সংকটের কারণে কাটা ধানের একটি বড় অংশ ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষকদের দাবি, কর্তনকৃত ধানের প্রায় ৮০ শতাংশই ভেজা অবস্থায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু পাকা রাস্তা দিয়ে পরিদর্শন বা দাপ্তরিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে হাওরের প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। বাস্তব পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক তথ্য যাচাই ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com