প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৮:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৫:৪০ পি.এম
কুষ্টিয়ায় বিষাদের ছায়া: বন্ধ হলো ঐতিহ্যবাহী এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ, কর্মহীন ৬০০ শ্রমিক!!

কুষ্টিয়ার শিল্প খাতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং বিআরবি (BRB) গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান
এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ থেকে ফিলিং স্টেশন, পিসিআর এবং অ্যালুমিনিয়াম সেক্টর ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের বাকি সকল ইউনিট তালাবদ্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় ৬০০ শ্রমিক-কর্মচারী।
সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠার কথা, সেখানে এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকদের চোখে এখন জল। জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার (প্রতিনিধি) সাথে আলাপকালে অশ্রুসিক্ত চোখে এক শ্রমিক বলেন, "এখন আমাদের পরিবারের উপায় কী হবে? সামনে ঈদ, সন্তানদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেব কীভাবে, আর নতুন কাপড়ই বা দেব কী করে?" প্রতিষ্ঠানের ফটকে জটলা পাকিয়ে থাকা শ্রমিকদের সবার মুখেই একই দুশ্চিন্তার ছাপ। হঠাৎ করে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম পারিবারিক টেনশনে দিন কাটছে তাদের।
দীর্ঘ ৩৩ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি (প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯২) ২০১৪ সালে সেরা করদাতা পুরস্কারসহ নানা স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। কুষ্টিয়ার কুমারগাড়া বিসিক শিল্প এলাকায় মজিবুর রহমানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পথচলা শেষে গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে বন্ধ ঘোষিত হয়েছে। আধুনিক পার্টিকেল বোর্ড, এমডিএফ বোর্ড এবং টেকসই পিভিসি শীট উৎপাদনের জন্য কারখানাটি বেশ সুপরিচিত ছিল। একইসাথে শিল্প খাতে অপরিহার্য কপার ও অ্যালুমিনিয়াম রড প্রস্তুত করে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে আসছিল।
তবে মালিকপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে:
• টানা লোকসান দিয়ে কারখানা চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না।
• তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও পাওনাদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালিকপক্ষ।
কুষ্টিয়া বিসিকের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবেশবান্ধব কাজের জন্য স্বীকৃত এই কারখানাটি একসময় কুষ্টিয়ার গর্ব ছিল।
এখন শ্রমিকদের একমাত্র দাবি, তাদের পাওনা যেন দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যাতে অন্তত এই সংকটময় সময়ে তারা পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিআরবি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কত দ্রুত পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com