কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের অদূরে অবস্থিত দুটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আস্তানা ও জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে ভবনগুলো পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, যেখানে প্রতিনিয়ত জড়ো হচ্ছে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯০-এর দশকে একতলা ও দোতলা এই ভবন দুটি কৃষকদের সার বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে ভবনগুলোর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত, ছাদের রড খুলে নেওয়া হয়েছে এবং ভেতরের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের ভেতরে মেঝেতে ইটের বৃত্তাকার বিন্যাস রয়েছে, যা নিয়মিত মাদকসেবনের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তবে অবাক করার বিষয় হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থানটি স্থানীয় কিছু নির্মাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে শুটিং লোকেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অতীতে এখানে নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে এবং এখনও অনেকেই ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে আসেন। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
রৌমারীর সমাজসেবক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “এটি এখন একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ভবনগুলো সিলগালা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের নিকটবর্তী এলাকায় এমন পরিস্থিতি চলতে থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা, অপসারণ এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং মাদকের বিস্তার স্থানীয় যুবসমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com