নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাট বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’র পরিচালক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ নভেম্বর মাদ্রাসা ছুটির পর মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন আমান উল্লাহ সাগর। সবাই চলে যাওয়ার সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
চিকিৎসক সায়মা আক্তার জানিয়েছেন, ১১ বছর বয়সী শিশুটির উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। রক্তে হিমোগ্লোবিনও আশঙ্কাজনকভাবে কম। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, শিশুটির কোমরের হাড়ের তুলনায় গর্ভস্থ ভ্রূণের মাথার আকার অনেক বড়। ফলে স্বাভাবিক প্রসব অসম্ভব এবং সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়াও তার শরীরের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে মা ও গর্ভস্থ সন্তান—উভয়ই জীবনঝুঁকিতে রয়েছে।
শিশুটির বাবা মৃত। মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত শিশুটি। ভুক্তভোগী মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। আজ আমার মেয়ের জীবন বিপন্ন। আমি এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রভাবশালী অভিযুক্তের পরিবার থেকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
সরজমিনে গেছে দেখা যায়: ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর স্ত্রী-সন্তানসহ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে