ঝিনাইদহ জেলায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও মতবিরোধ। মূল প্রশ্ন এখন—প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজটি জেলা সদরে স্থাপিত হবে, নাকি শৈলকূপা উপজেলায়?
সম্প্রতি ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান শৈলকূপা উপজেলায় প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের জন্য সম্ভাব্য জমি পরিদর্শন করেন। এর পর থেকেই এ ইস্যুতে জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
জেলা সদরের বাসিন্দাদের দাবি, একটি জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সদরেই স্থাপন করা উচিত। তাদের মতে, জেলা সদর কেন্দ্রিক অবস্থান হলে ছয়টি উপজেলার মানুষ সহজে চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা পাবে। পাশাপাশি সদর হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে কম ব্যয়ে দ্রুত মেডিকেল কলেজ চালু করা সম্ভব।
অন্যদিকে, শৈলকূপা উপজেলার বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, উন্নয়নকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। তাদের মতে, শৈলকূপায় মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলে ওই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে বিরোধী মতামতকারীরা বলছেন, শৈলকূপা জেলার এক প্রান্তে হওয়ায় দূরবর্তী উপজেলার রোগীদের জন্য সেখানে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হবে। ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে আঞ্চলিকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। সচেতন মহলের অভিমত, মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে ভৌগোলিক সুবিধা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের সহজ প্রবেশাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঝিনাইদহে একটি মেডিকেল কলেজ এখন সময়ের দাবি হলেও স্থান নির্ধারণে সঠিক সিদ্ধান্ত না হলে এর সুফল ব্যাহত হতে পারে। তাই সরকার সংশ্লিষ্ট সকল দিক বিবেচনা করে বৃহত্তর জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com