নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীনভাবে শিশুখাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র্যাব। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত শিশুখাদ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) উপজেলার অনন্তপুর ও একলাশপুর এলাকায় যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘মেসার্স মাহিন ফুড অ্যান্ড কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই কৃত্রিম রং ও বিভিন্ন ফ্লেভার ব্যবহার করে বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডের আদলে ড্রিংকো, আইস ললি ও আইস পপ উৎপাদন করছিল।
অভিযানে আরও দেখা যায়, ‘ইডিবল জেলি’ নামে লিচুর সাদৃশ্য একটি শিশুখাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল, যার মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ ছিল না। এছাড়া পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাব টেকনিশিয়ানও নিয়োজিত ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আম, লিচু, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের কৃত্রিম ফ্লেভার ও রং ব্যবহার করে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যপণ্য তৈরি করছিল।
এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক মাসুদুর রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত শিশুখাদ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম এবং র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার। জেলা বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com