বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় আয়োজন। শুক্রবার ২৫ বৈশাখ দুপুরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নিতাই রায় চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৌহরাব উদ্দিন।
“শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তিন দিনব্যাপী এ জাতীয় উৎসবে থাকছে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, নৃত্য পরিবেশনা ও মঞ্চনাটক। দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীরা এতে অংশ নিচ্ছেন। সন্ধ্যার পর কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির সম্মুখের মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। সড়কে আঁকা হয়েছে বর্ণিল আলপনা। কুঠিবাড়ির দেয়াল ও গাছের গোড়ায় দেওয়া হয়েছে নতুন রঙের প্রলেপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রবীন্দ্রভক্তদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো শিলাইদহ এলাকা।
কুমারখালী আলাউদ্দিন আহামেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, “বিশ্বকবির সৃষ্টি আজও বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে গৌরবান্বিত করছে।” অন্যদিকে দৌলতপুর থেকে আগত দর্শনার্থী রাসেল রেজা বলেন, “জন্মবার্ষিকীর এই আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলা ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৯১ সালে জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নিয়ে তিনি শিলাইদহে আসেন এবং এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনুপ্রাণিত হয়ে রচনা করেন ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’-সহ বহু কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি অর্জন করেন নোবেল পুরস্কার। আজও শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বহন করছে তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের অমূল্য স্মৃতি।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com