বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সানকিভাঙ্গা এলাকায় ক্রয়কৃত জমির ওপর নির্মিত দোকান ঘরের সামনে সরকারি জায়গা ঘেরা দিয়ে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে সেখানে চারটি দোকান ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় মাসুদ, রুবেল গাজী গংদের বিরুদ্ধে দোকান ঘরের সামনের সরকারি রাস্তার অংশে জিয়াল গাছের বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে ঘেরা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে দোকানে যাতায়াত ও ব্যবসা পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
ভুক্তভোগী মো. হোসেন ফকির বলেন, “বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জোরপূর্বক দোকানের সামনে ঘেরা দিয়ে দখলের চেষ্টা করছে। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
দলিল সূত্রে জানা গেছে, সানকিভাঙ্গা মৌজার এসএ ২৭২ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ১৬ দশমিক ৫০ শতক জমি রুবেল গাজী বৈধভাবে মো. হোসেন ফকিরের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বরগুলো হলো ১০০৮, ১০০৯, ১০১১, ১০১২ ও ১০১৬। এছাড়া একই জমির একটি অংশ জাহিদুল ইসলামের নামেও রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
রুবেল গাজী বলেন, “আমার নামীয় জমি ১৩ বছর আগে বৈধভাবে রেজিস্ট্রি ও দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অন্য কারও কোনো বৈধ দলিল নেই। সরকারি রাস্তার ওপর বেড়া দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় গ্রামীণ এলাকায় দখলবাজি ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com