ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। সীমান্তজুড়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়লেও থামছে না অবৈধ পণ্য পাচার। সম্প্রতি বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পথে অব্যাহত রয়েছে চোরাচালান কার্যক্রম।
রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে কসবা থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—নোয়াগাঁও গ্রামের মোঃ জামাল মিয়ার ছেলে মোঃ মালু (৩৮) এবং কাশিপুর গ্রামের মোঃ ফিরোজ মিয়ার ছেলে মোঃ মনির (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫ বস্তা বাসমতি চাল, ৩ বস্তা জিরা, ২ কার্টুন রেডবুল এনার্জি ড্রিংক এবং ১ বস্তা চশমা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এসব পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধজনগর, খামারপাড়া, পাতারিয়াদ্বার ও মধুপুর সীমান্ত রুট ব্যবহার করে রাতের আঁধারে নিয়মিত খাদ্যপণ্য, কসমেটিকস ও বিদেশি বিভিন্ন পণ্য পাচার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের বাহকরা আটক হলেও নেপথ্যে থাকা মূল সিন্ডিকেট সদস্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় এলাকার কিছু বেকার যুবকও এই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com