প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১১, ২০২৬, ১:৪১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ১১:৪৪ পি.এম
রৌমারীতে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ; অবরুদ্ধ পঞ্চু মিয়ার পরিবার

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার খাটিয়ামারী গ্রামে জমি কেনা-বেচা ও পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধের জেরে এক অসহায় পরিবারের দীর্ঘ ৫০ বছরের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার খাটিয়ামারী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ পঞ্চু মিয়া (৫৪) ও তার পরিবার বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পঞ্চু মিয়া স্থানীয় থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ পঞ্চু মিয়া পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছেন। তার বাড়ি থেকে মসজিদে যাওয়ার জন্য পূর্ব পাশে একটি পায়ে হাঁটা রাস্তা ছিল। স্থায়ী যাতায়াতের সুবিধার্থে মসজিদ কমিটির সভাপতির সম্মতিতে পঞ্চু মিয়া নিজ খরচে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২ ফুট গভীর ও ৬ ফুট প্রশস্ত একটি মাটির রাস্তা নির্মাণ করেন। কয়েক বছর ওই রাস্তা দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করলেও গত পাঁচ মাস আগে স্থানীয় মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (ওরফে বাঘ রাজ্জাক) ও তার সহযোগীরা রাস্তাটি নিয়ে বিরোধ শুরু করেন। বিরোধের শুরু ও হুমকি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিবাদী পক্ষ জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। পঞ্চু মিয়ার অভিযোগ, তার নিজের জমিতে নির্মিত এবং এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র পথটি বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে। সম্প্রতি মেয়ের চিকিৎসার জন্য ধান বিক্রির প্রয়োজনে রাস্তাটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে বিবাদী আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পঞ্চু মিয়া বলেন, "আমি নিরুপায় হয়ে গ্রাম্য সালিশ ডাকলেও বিবাদী পক্ষ তা মানছে না। বর্তমানে আমার পরিবার নিয়ে হাসপাতালে বা হাটে যাওয়ার কোনো পথ নেই। আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।" প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি মোঃ আব্দুল হালিম (হাই), সাবেক মেম্বার পুত্র মোঃ নূর মোহাম্মদ ও মোঃ আশরাফুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ওই রাস্তাটি পঞ্চু মিয়ার দীর্ঘদিনের যাতায়াতের পথ। হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। অভিযুক্ত ও আইনি পদক্ষেপ- মামলায় অভিযুক্ত বিবাদীরা হলেন— ১. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (বাঘ রাজ্জাক), ২. মোঃ শামসুল হুদা, ৩. মোঃ আবু সাঈদ গেল্লা ও ৪. মোঃ আবুল কালাম। এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব কাওছার আলী জানান, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নালিশি জমির বিবরণ: > মৌজা: রৌমারী (আলগা), জে.এল নং- ২২, খারিজ খতিয়ান নং- ৩৫১৬, হোল্ডিং নং- ৫৪৪৬, দাগ নং- ৩২৭৫। জমির পরিমাণ ৫০.৬৫ শতক। অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এই সংকটের সমাধান এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com