সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উপজেলা সদর এলাকায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। রৌমারী উপজেলা চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা সবুজপাড়া এলাকায় গাইডওয়াল ধসে পড়ার স্থান পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন।
অবিরাম বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও কৃষকরা। কাজ না থাকায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে আমন বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও ভুট্টাক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।
বাউসমারী এলাকার কৃষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ভুট্টা ঘরে তুলতে পারছি না। রোদ না থাকায় শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”
জলাবদ্ধতার কারণে রৌমারী বাজারেও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com