চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় রাস্তা দখল করে হকার বসানো ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়ভাবে পরিচিত আজিম ও রিপন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রভাব খাটিয়ে হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। এ ঘটনায় সাধারণ হকার, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন সড়কে ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে প্রতিদিন হকারদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হয়। কেউ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। বেচাকেনা কম হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিনা টাকায় পণ্য নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, রাস্তার ওপর অবৈধভাবে হকার বসানোর কারণে প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বহনকারী বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার দায় দল নেবে না। এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
চট্টগ্রাম ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “চাঁদাবাজির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গরিব মানুষ জীবিকার জন্য হকারি করতে পারে, তবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ইপিজেড এলাকায় কীভাবে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চলতে পারে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com