ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা শ্যামগঞ্জ বাজারে অবস্থিত আমিনুল সরকারের বেকারিকে ঘিরে উঠেছে ভয়াবহ অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি যেন জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
কলেজ গেটের বিপরীত পাশে অবস্থিত এই বেকারিতে প্রতিদিন কেক, বিস্কুট, মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম মানও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যপণ্য তৈরিতে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর সোডা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে কেক, বিস্কুট ও মিষ্টিজাতীয় পণ্যে অতিরিক্ত সোডা মিশিয়ে খাবারকে আকর্ষণীয় ও ফুলানো দেখানোর চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সোডাযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, কিডনি জটিলতা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, বেকারির কর্মচারীরা কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই খাদ্য প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত থাকেন। তাদের হাতে গ্লাভস নেই, মাথায় নেই ক্যাপ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে চুল, ময়লা ও জীবাণু সহজেই খাদ্যের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেকারির ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। উৎপাদন কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা আবর্জনা, অপরিষ্কার পাত্র ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ। খাদ্য উৎপাদনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন নোংরা পরিস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোক্তা জানান, “বাচ্চাদের জন্য কেক-বিস্কুট কিনে নিয়ে যাই, কিন্তু ভেতরে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জানলে কেউ এগুলো খেতে চাইবে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত অভিযান চালানো।”
এলাকার সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এভাবে দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিভাবকরা অবিলম্বে বেকারিটির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল সরকারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে এমন অনিয়ম আর কতদিন চলবে? এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন জনস্বার্থে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। উক্ত অভিযোগের সকল তথ্য প্রমান আমাদের বার্তা বিভাগে সংরক্ষিত আছে এবং উক্ত ঘটনার ভিডিও নিউজ আমাদের মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত হবে ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে চোখ রাখুন জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া পেইজে
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com