ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে অবস্থিত যমুনা প্রাইভেট হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার (২২) নামে এক নারী কর্মচারী সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি যমুনা প্রাইভেট হাসপাতালে রিসিপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালের বাইরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়, শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মারধর, টানাহেঁচড়া ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এতে তিনি আহত হন এবং প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন বলে দাবি করেন। অভিযোগে লিপি বেগম, জামাল মিয়া, আতিক, কাউছার, জাকির ও খায়েরসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসলিমা আক্তার জানান, ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে আছিয়া ফার্মেসির মালিক জামাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেয়েটি আমার ভাগনেকে মারধর করেছে এবং আমাকেও আঘাত করেছে। এ ঘটনায় আমিও থানায় মামলা করেছি।”
যমুনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। তবে হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআর মেশিন নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কিছু সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “হাসপাতালে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। রোগী ও স্টাফদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।”
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com