
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ ৫ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান ও কঠোর নজরদারির মুখে কোণঠাসা হয়ে তারা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৭ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চলাকালে বাহিনীটির প্রধান ছোট সুমনসহ মোট ৫ সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ছোট সুমন বাহিনী’ দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় জেলে, মৌয়াল ও বনজীবীদের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল। চাঁদাবাজি, অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল বাহিনীটির বিরুদ্ধে। তাদের তৎপরতায় বনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছিল।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল, নদী ও দুর্গম এলাকায় প্রতিনিয়ত চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানের ফলে বনদস্যুদের চলাচল ও কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কঠোর অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা অভিযানের কারণে সুন্দরবনে দস্যু কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক কমেছে। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের আইনের আওতায় এনে পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com