দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং বা “মিড ডে মিল” কর্মসূচি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিতরণের অভিযোগে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা, বাসি ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও দুর্গন্ধযুক্ত বানরুটি, কোথাও অপরিপক্ব বা কেমিক্যালযুক্ত কলা, আবার কোথাও নির্ধারিত মানের চেয়ে ছোট আকারের ডিম দেওয়া হচ্ছে। এসব খাবার খেয়ে কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারী চক্রের যোগসাজশে খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম ঘটছে। খাদ্যের মান যাচাই ও তদারকির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুধু ডিম ও কলা সরবরাহ নিয়েই প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের তলব এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সচেতন মহলের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, তাদের অনেকের সন্তান সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে না। অথচ সাধারণ মানুষের শিশুদের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের পুষ্টি নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা দুর্নীতি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি গুরুতর মানবিক অপরাধ। তারা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com