ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের তিতাস নদীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম শ্রাবণ মিয়া (২২)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মাইমলহাটি এলাকার কান্দিপাড়ার বাসিন্দা খোকন মিয়ার ছেলে এবং পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা, সুলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।
এর আগে সোমবার (১৮ মে) দুপুরে শহরের কারখানা ঘাট এলাকায় তিতাস নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি পচে যাওয়ায় প্রথমদিকে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নুরু (২৪), জীবন (১৯) ও শাহাঙ্গীর (২৪) নামে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে শ্রাবণ ও শাহাঙ্গীর আশুগঞ্জের লালপুর এলাকা থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদীর পাড় এলাকায় যান। সেখানে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে চালক চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে শ্রাবণ ও শাহাঙ্গীর নদীতে ঝাঁপ দেন। শাহাঙ্গীর সাঁতরে পালিয়ে গেলেও শ্রাবণ নিখোঁজ হন।
নিহতের বাবা খোকন মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার শ্রাবণ শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদে প্রকাশিত ছবি দেখে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন। হাতের আঙুল, শরীরের গঠন ও পরনের কাপড় দেখে তিনি ছেলেকে শনাক্ত করেন বলে জানান।
নবীনগর সুলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইনস্পেক্টর পুলক চন্দ্র রায় বলেন, স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর পানিতে ডুবে শ্রাবণের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ছিনতাইচেষ্টার বিষয়টি সামনে এসেছে। নিহতের পরিবার কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com