বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন প্রচারণায় ব্যবহৃত মাইকের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে যত্রতত্র উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক পরিচিতি, নূরানী মাদ্রাসার প্রচারণা, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি, গরু-ছাগল ও বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, অফিস-আদালত এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, “সারাদিন মাইকের উচ্চ শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। এর সঙ্গে যানবাহনের হর্নের শব্দও রয়েছে। আমরা শব্দদূষণ থেকে মুক্তি চাই।”
শিক্ষার্থীরা জানান, দিন-রাত সমানতালে মাইক বাজানোর কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সমস্যা তৈরি হয়। শিক্ষকরাও বলছেন, উচ্চ শব্দের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত শব্দদূষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘসময় উচ্চ শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, স্নায়ুবিক সমস্যা, এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। শিশুদের মানসিক বিকাশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আইনজীবীরা জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর আওতায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার জন্য নির্ধারিত শব্দমাত্রা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “শব্দদূষণ পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টন চন্দ্র পাল বলেন, “উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহারের কারণে মানুষের নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com