আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পশুর হাটগুলো এখন জমে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায়। বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উপজেলার বিভিন্ন হাটে চলছে ব্যাপক বেচাকেনা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে হাটের প্রাণচাঞ্চল্য ও মানুষের ভিড়।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, নাসিরনগর সদর, ফান্দাউক, চাতলপাড়, নূরপুর, পূর্বভাগ, গুনিয়াউক, হরিণবেড়, ভলাকুট, কুলিঙ্কুন্ডা ও চাপড়তলাসহ বিভিন্ন হাটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। শেষ মুহূর্তের চাপ ও বাড়তি দামের আশঙ্কা এড়াতে আগেভাগেই অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনে বাড়ি ফিরছেন।
এবারের বাজারে বড় গরুর তুলনায় দেশি জাতের মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা মাঝারি গরুর প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বাজারে দাম কিছুটা বেশি হলেও অধিকাংশ ক্রেতার মতে, এবারের পশুর দাম এখনো সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে।
স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এবার ভারতীয় গরুর প্রবেশ না থাকায় দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
হাটে আসা কয়েকজন খামারি বলেন, “আমরা কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা স্টেরয়েড ব্যবহার করিনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস, ভুসি, খৈল, বিচালি ও ভুট্টা খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে।”
একজন মৌসুমি বিক্রেতা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টি থাকলেও বিক্রি মোটামুটি ভালো হয়েছে। ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাসিরনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সামিউল বাছির বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও উপজেলার পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত করেছেন। এবার উপজেলায় চাহিদার তুলনায় পশুর জোগান বেশি রয়েছে। ফলে বাজারে সংকটের আশঙ্কা নেই।”
এদিকে, পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তৎপর দেখা গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও নাসিরনগরের পশুর হাটগুলোতে এখন বইছে ঈদুল আজহার আগাম উৎসবের আমেজ।