বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের ঝলমলিয়া দিঘীরপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযুক্ত সুজন মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হুড়কা ইউনিয়নের কৃষিজমি ও মাছের ঘের সংলগ্ন এলাকায় ভেলার ওপর ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে ভরাট কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়া, পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়া এবং ফসলি জমির ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা।
জমির মালিকের অভিযোগের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে রামপাল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার মেশিন চলমান অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ড্রেজার চালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি মোবাইল ফোনে সুজন মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা জানালে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ড্রেজার বন্ধ না করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। চালকের দাবি, সুজন মজুমদার বলেন,
“ড্রেজার চালু রাখেন, কি হয় আমি দেখছি।”
এ সময় সাংবাদিক ও স্থানীয়দের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন উপস্থিতরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, প্রতিবাদ করলে প্রশাসনের ভয় দেখানো হতো।
এক কৃষক বলেন, “প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি তুলে ধরলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।”
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সাংবাদিকরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করলে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয় এবং ড্রেজার মেশিন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযানে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com