কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের লালকুড়া এলাকার জরাজীর্ণ কাঠের ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সাময়িক মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জিনজিরাম নদীর পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানার চাপে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এতে বকবন্ধা, লালকুড়া, খেয়ারচরসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শিক্ষা, কৃষি ও চিকিৎসাসেবা।
এর আগে দৈনিক অভয়নগর পত্রিকায় “মূর্তমান আতঙ্ক লালকুড়া কাঠের ব্রিজ: স্রোতের তোড়ে ভাঙার মুখে, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও আলাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলীকে দ্রুত সাময়িক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন, যাতে অন্তত স্থানীয় মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “খেতের ভুট্টা বাজারে নিতে পারছি না। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের বড় ক্ষতি হচ্ছে।”
অন্যদিকে আলী আকবর নামে এক বাসিন্দা বলেন, “অসুস্থ রোগী নিয়ে চরম বিপাকে আছি। একটি পাকা সেতু এখন সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মাহবুব আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর এমন দুর্ভোগ এড়াতে লালকুড়া এলাকায় দ্রুত একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com