নড়াইলের কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রামের দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগকে ঘিরে নতুন নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন শিক্ষক বছরের পর বছর নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে তা কীভাবে বিদ্যালয়, পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে গেল?
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার শিক্ষা এখন আর অতিরিক্ত কোনো বিষয় নয়; এটি আধুনিক শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। অথচ একটি বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকলেও কেউ দায় স্বীকার করছেন না।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয় নয়, বরং বিদ্যালয়ের সার্বিক তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাই এ অবস্থার জন্য দায়ী হতে পারে। তারা জানতে চান, নিয়মিত একাডেমিক তদারকি, পরিদর্শন এবং বার্ষিক মূল্যায়নের সময় বিষয়টি কেন গুরুত্ব পায়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এক পর্যায়ে বেতন উত্তোলন করেছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়েছেন। তবে কোন পরিস্থিতিতে বেতন উত্তোলন করা হয়েছিল, কেন ফেরত দিতে হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঠদান বন্ধ থাকে, তাহলে শুধু একজন শিক্ষক নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। কারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করেছে, বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কারণ উদঘাটন করতে হবে।
এদিকে জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার অনুসন্ধান টিম ইতোমধ্যে বিভিন্ন নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অতীত প্রশাসনিক কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করেছে। অনুসন্ধানে উঠে আসা নতুন তথ্য ও নথির ভিত্তিতে পরবর্তী পর্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে।
(চলবে — অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পঞ্চম পর্বে থাকছে: বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, তদারকি ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য)
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com