নারীর নিরাপত্তা একটি সভ্য সমাজের অন্যতম প্রধান শর্ত। তবে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে নারী হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জনসমাগমস্থল, বাজার ও বিভিন্ন সড়কে নারীদের প্রতি অশোভন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচলের সময় তারা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এতে তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, বিচ্ছিন্ন এসব অভিযোগ সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করে। তারা মনে করেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রৌমারীর সমাজসেবক শাহ মুহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি থেকে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট। কোনো নারী হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী বা প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত পুলিশকে জানালে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নারী হয়রানি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধও গুরুত্বপূর্ণ। জনসমক্ষে কোনো নারী হয়রানির শিকার হলে আশপাশের মানুষের প্রতিবাদী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং নারী ও শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রৌমারীবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনিক তৎপরতা, সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নারী হয়রানিমুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com