রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসী নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভুক্তভোগী নারী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত মুনসুর রহমান উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের পোড়াকয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর আত্মীয়তার সূত্রে মুনসুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভবিষ্যৎ সংসারের নানা পরিকল্পনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। অর্থ লেনদেনের প্রমাণপত্র তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নারীটি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে তিনি মুনসুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করেন। বিয়ের আশ্বাসে প্রায় আট মাস একসঙ্গে বসবাসের পর বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্ত নানা অজুহাত দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি অর্থ গ্রহণের বিষয়টিও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বর্তমানে যে বাড়িতে তিনি অবস্থান করছেন সেটিও তার অর্থায়নে নির্মিত। কিন্তু এখন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যাংকের চেকবই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার স্বজনদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রবাসী নারী জানান, ২০১৮ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে জর্ডানে যান এবং পরে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ ভবিষ্যৎ সংসারের আশায় অভিযুক্তের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় তিনি আদালতে মুনসুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুনসুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com