নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৪৬ জন যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন বাসের হেলপার দুলাল মিয়া। সেই সাহসী আত্মত্যাগের ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই মটরস।
শনিবার (৬ জুন) কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ইয়ামাহা রাইডারস ক্লাব বাংলাদেশ ও সিয়েট বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জানা যায়, গত ২৯ মে রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আহসান পরিবহনের একটি বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংকটময় মুহূর্তে বাসের হেলপার দুলাল মিয়া দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি বাস থামানোর উদ্যোগ নেন। তার সেই সাহসী প্রচেষ্টার ফলে বাসটি থেমে যায় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে এ সময় গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুলাল মিয়া। তার আত্মত্যাগে বাসে থাকা ৪৬ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পান।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ, প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান সজিব, কুড়িগ্রাম ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের অ্যাডমিন একরামুল হক, রংপুর ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের মডারেটর আহমেদ রাহাতসহ অন্যান্য সদস্যরা।
দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম বলেন, স্বামীর উপার্জনেই সংসার চলত। তার মৃত্যুর পর পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।
এসিআই মটরসের প্রতিনিধি ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “দুলাল মিয়ার আত্মত্যাগ মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন। তার এই সাহসিকতা দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
স্থানীয়রা দুলাল মিয়াকে একজন সাহসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার পরিবারের প্রতি সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com