মোহাম্মদ মুজাহিদঃ
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের সাথে এক তরুণীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কাঁদাকাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, আশাশুনি বড়দল ইউনিয়নের এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের সঙ্গে প্রথমে পরিচয় এবং পরে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে জাহাঙ্গীরের। অভিযোগ রয়েছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সুযোগে তরুণীর অগোচরে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন তিনি।
তরুণী বিষয়টি বুঝতে পেরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে জাহাঙ্গীর তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও আরও কয়েকটি আইডি ব্যবহার করে ওই তরুণীর আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচিত হওয়ার পর তিনি ছবিগুলো মুছে ফেললেও ততক্ষণে সেগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, “এই ঘটনার পর সমাজে মুখ দেখানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অপমানিত হয়ে ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে।”
ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় আ’লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। কাঁদাকাটি ইউনিয়নে জাহাঙ্গীরের আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—তিনি নিয়মিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
এ বিষয়ে জানতে ১১ নং কাটাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা আশাশুনি উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, অপকর্মকারীকে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে আলোচিত ওই আ'লীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেয়েরা দেখালে কে না দেখে? এতে দোষের কিছু না ভাই। আইডি হ্যাক করে কে বা কারা এই ছবি পোষ্ট করেছে তা আমার জানা নেই। এছাড়া যে মেয়েটির বিষয়ে বলা হচ্ছে তাদের থেকে কোন অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মতে দ্রুত এই জাহাঙ্গীর কে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজে বেড়ে যাবে পরকীয়ার মতন ভয়াবহ ক্যান্সার