পর্ব-১: অভিযোগ, জবানবন্দি ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিতর্ক
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত আসামি ইয়ার আলীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে জবানবন্দিতে নাম আসার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ মার্চ রাতে র্যাব-৬ ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর এলাকা থেকে ইয়ার আলীসহ চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ওয়াকিটকি সেট এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি।
পরবর্তীতে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতের অনুমতিক্রমে রিমান্ডে নেওয়া হলে ইয়ার আলী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি অস্ত্র সংগ্রহ ও ব্যবহারের বিষয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জবানবন্দিতে নাম আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলেও সেটি যাচাই-বাছাই এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করা তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, যাদের নাম তদন্তে এসেছে তাদের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন জনমনে থাকা প্রশ্নের উত্তর মিলবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থাও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্বে তা প্রকাশ করা হবে।
(চলবে)
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com