ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (৭ জুন) উপজেলার ৭০ থেকে ৮০ জন কার্ডধারী জেলে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করে দাবি করেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বরাদ্দ চালের একটি বড় অংশ প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, সোনাপুর ইউনিয়নের কয়েকশ’ নিবন্ধিত জেলের মধ্যে অনেকে চাল পাননি। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাল বিতরণে অনিয়মের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জেলে কার্ডের কপি জমা নেওয়ার পরও তাদের কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্ত হয়েও তারা চাল পাননি। তাদের দাবি, প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে বরাদ্দ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রিজন মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "মাস্টাররোল অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এত বড় কার্যক্রমে কেউ বাদ পড়তে পারে, তবে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।"
তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বনি আমিন বলেন, জেলেদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com