June 9, 2026, 3:57 pm
শিরোনাম :
ড্রেন নির্মাণের খননে ধসে পড়ল স্কুলের সীমানা প্রাচীর, ব্যাহত পাঠদান সামাজিক সচেতনতা ও আইনি জ্ঞান বৃদ্ধিতে রামপালে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ঝিকরগাছা খাল খনন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ইউপি সচিবকে ঘিরে নতুন বিতর্ক হুমকির পর ব্যবসায়ীর দোকানে আগুন, ক্ষতির দাবি ১০ লক্ষাধিক টাকা প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে রহস্যজনক মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক প্রেমিক তিন ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় সিংগাইরে মানববন্ধন কুমার নদের বাঁকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের জনপদ হরিণাকুণ্ডু ভুয়া এএসপি পরিচয়ে প্রতারণা, বড়লেখায় আটক যুবক বান্দরবানে এনসিপির ৫১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন নওগাঁয় পুলিশের পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, আটক ৪ মাদকসেবী

ঝিকরগাছা খাল খনন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ইউপি সচিবকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

আশরাফুজ্জামান বাবু স্টাফ রিপোর্টার যশোর

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দুই লাখ টাকার প্রকল্পে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন হলেও অবশিষ্ট ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম। কমিটির অন্যান্য সদস্য ছিলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। কমিটির সদস্য আয়ুব হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে চার দিনব্যাপী খনন কাজে মোট ১৫২ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা হাজিরা হিসেবে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ মোট ব্যয় হয় ৭৬ হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খাল খননের পরিবর্তে ছোট আকারের একটি নালা খনন করা হয়েছে। প্রায় ৬ ফুট প্রস্থ ও ৪ ফুট গভীর এই খননকাজ কৃষকদের প্রত্যাশিত উপকারে আসছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। খালের সম্মুখভাগে খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও কার্যকর হয়নি।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে জানান এটি উপজেলার অতিরিক্ত প্রকল্প। এলাকার স্বার্থে কাজটি করতে বলেন। তার কথায় বিশ্বাস করে আমি খালি চেকে স্বাক্ষর করি। পরে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য তিনি আমাকে ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন, পিআইও অফিসের জন্য ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বাকি অর্থ কোথায় গেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, “এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি সেখানে কখনও যাইনি। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “আমরা প্রকল্পের কাজ নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা দেখি। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার